সৌন্দর্য চর্চায় টমেটোর দুই উপায়

নিয়মিত ভারী মেকআপ, চটকদার নানা পণ্যের ব্যবহার আমাদের ত্বক নষ্ট করে দিতে পারে। এ ছাড়া এই মৌসুমের ঠান্ডা পানি, দুশ্চিন্তা, ধুলোবালি লেগেও ত্বক তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলে। বাজারে নানা ব্র্যান্ডের ফেইস ক্লিনজার বা ফেইসওয়াশ পাওয়া যায়। তবে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে নিজেই ঘরে বানিয়ে ফেলতে পারেন ফেইস ক্লিনার বা টোনার। যা আপনার ত্বকে ক্ষতিকর কেমিক্যাল থেকে সুরক্ষা দেবে। এখানে থাকছে তেমন একটি টোনার তৈরির উপায়।

টমেটো ও শসার টোনার

একটা পরিষ্কার ব্লেন্ডারের ভেতর একটা ছোট শসা ও একটা বড় টমেটো দিন। এবার সেটা ভালোমতো ব্লেন্ড করে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। হয়ে গেলে একটা বয়ামে ভরে এই মিশ্রণটি ফ্রিজে রেখে তিন দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে। এই টোনার একটু তুলা বা সুতি পরিষ্কার নরম কাপড়ের সাহায্যে মুখ ও ঘাড়ে লাগিয়ে নিন। মুখে লাগিয়ে পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ও ঘাড় ধুয়ে ফেলুন। টমেটোতে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ত্বকের নানা রকম ক্ষতিকর র‌্যাডিকেলস দূর করে। ত্বক করে তোলে কোমল ও স্বাস্থ্যকর। সূর্যের তাপে যাদের ত্বকে জ্বালা অনুভব করেন এই টোনার তাদের জন্য দরুন কার্যকর।

টমেটোর ফেইস স্ক্রাব

একটা টমেটো কুচি (চপড) করে কেটে নিন। এবার তার ওপরে চা-চামচের পাঁচ ভাগের একভাগ পরিমাণ চিনি ছিটিয়ে দিন। এবার এই টমেটো আপনার মুখের ত্বকে সার্কেল করে ধীরে ধীরে ঘষতে থাকুন। অবশ্যই এই ক্র্যাব ঘষার সময়ে সাবধান থাকুন যেন বেশি জোরে না ঘষা লাগে। মুখের ত্বক স্পর্শকাতর, বেশি জোরে ঘষলে র‌্যাশ উঠে মুখ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জোরে ঘষা লাগলে মুখ জ্বালাপোড়া করে। স্ক্রাব ব্যবহারের কয়েক মিনিট পর কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ঘুমানোর আগে এই স্ক্রাব ব্যবহার করতে পারেন। কয়েক দিন ব্যবহারের পর সকালে উঠে দেখবেন ত্বক কোমল ও মোলায়েম হয়ে পড়েছে।

 

 

চুলের যত্নে যা জানতে হবে

নারী কিংবা পুরুষ সবারই চুলের যত্ন নিতে হয়। চুলের যত্ন নিয়ে আমাদের প্রশ্নের বা জানার আগ্রহের শেষ নেই। আর সম্ভবত এর যত্নেই সবচেয়ে বেশি টোটকা ব্যবহার করা হয়, যার কিছু কাজ করে কিছু করে না। চুলের যত্ন নিয়ে ভ্রান্ত তথ্যেরও শেষ নেই। চুলের যত্নে কিছু সাধারণ বিষয় জানা থাকা জরুরি।

প্রতিদিন চুল ধুতে হবে

রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন বলেন, ‘আমাদের দেশের আবহাওয়ায় প্রতিদিনই শ্যাম্পু করা উচিত। যাঁরা রোজ বাইরে যান, তাঁদের জন্য এটি অবশ্যই করণীয়। যাঁরা বেশির ভাগ সময় ঘরেই থাকেন, তাঁদের ধুলাবালুতে চুল তেমন ময়লা হয় না। সে ক্ষেত্রে এক দিন পরপর চুল পরিষ্কার করা যেতে পারে।’ চুল ও মাথার ত্বক তৈলাক্ত হলে বাইরে বের না হলেও প্রতিদিনই শ্যাম্পু করার পরামর্শ দেন আফরোজা পারভীন। সব ঋতুতেই এটি মেনে চলা দরকার।

চুলে শ্যাম্পুর পরিমাণ নিয়ে আমাদের ভুল ধারণার কমতি নেই। কতটুকু শ্যাম্পু চুলে ব্যবহার করা হবে তা নির্ভর করবে চুলের ঘনত্ব ও দৈর্ঘ্যের ওপর। চুল কম বা ছোট হলে শ্যাম্পুর পরিমাণ কম হবে এবং চুলের পরিমাণ বেশি ও চুল লম্বা হলে শ্যাম্পুর পরিমাণ স্বাভাবিকভাবেই বেশি হবে। শ্যাম্পুর সঙ্গে অল্প পানি মিশিয়ে নিলে চুল পরিষ্কার করতে সুবিধা হবে। শ্যাম্পু করতে হবে দুবার, অর্থাৎ একবার শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে আবার করতে হবে। সময়টা এখন ধুলোবালুর। এ সময় ধুলাবালুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় খুশকির সমস্যা বৃদ্ধি পায়। এ সময় তাই প্রতিদিন শ্যাম্পু করা উচিত।

 

কন্ডিশনিং কয়বার

চুল শুষ্ক, তৈলাক্ত ও মিশ্র—এই তিন ধরনের হয়ে থাকে। শুষ্ক চুলের জন্য কন্ডিশনিং করা প্রয়োজন নিয়মিত। চুল বেশি শুষ্ক হলে প্রতিবার শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনিং করা উচিত। চুল তেলতেলে বা তৈলাক্ত হলে কন্ডিশনার ব্যবহার না করলেও চলে। মিশ্র ধরনের চুলে এক দিন পরপর কন্ডিশনিং করা যায়। কন্ডিশনার চুলে লাগাতে হবে চুলের আগা থেকে ওপরের দিকে। গোড়ায় কোনোমতেই এটি লাগানো যাবে না। কন্ডিশনার ব্যবহারের পরিমাণও নির্ভর করবে চুলের দৈর্ঘ্যের ওপর। ছোট চুল হলে কম, লম্বা হলে অপেক্ষাকৃত বেশি কন্ডিশনার নিতে হবে।

কত দিন পরপর তেল দেবেন

তেল নিয়ে আমাদের বিভিন্ন ধারণা কাজ করে। চুলে কি তেল নিয়মিত দিতে হবে, এ প্রশ্ন সবার মনেই। এর উত্তর হলো প্রতিদিন চুলে তেল দেওয়াটা জরুরি নয়। তবে চুল স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও ঝলমলে রাখার জন্য সপ্তাহে অন্তত এক দিন চুলের গোড়ায় এবং পুরো চুলে তেল দিতে হবে। চুল শুষ্ক ও ভঙ্গুর হলে দুদিন পরপর তেল ম্যাসাজ করা ভালো। তেল দিয়ে এক ঘণ্টার মতো রেখে চুল শ্যাম্পু করে ফেলতে পারেন। অতিরিক্ত তৈলাক্ত চুল হলে এত ঘন ঘন তেল দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

যন্ত্রের ব্যবহার

চুলের যত্নে এবং চুল সাজাতে হেয়ার ড্রায়ার, আয়রন বা কার্লারের মতো অনেক ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। এগুলো দিয়ে চুল শুকানো এবং স্টাইলিং করা হয়। কিন্তু চুল শুকাতে সব সময় কি হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা ভালো? আয়রন বা হেয়ার কার্লারের মতো যন্ত্র ব্যবহার করলে চুলের কোনো ক্ষতি হয় কি? রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি ও আফরোজা পারভীন দুজনই জানিয়েছেন, খুব প্রয়োজন না হলে এগুলো ব্যবহার না করাই ভালো। তবে একেবারে বাদও দেওয়া যাবে না।

তবে এসব যন্ত্র চুলে ব্যবহার করলে চুলের ওপর দিয়ে ধকল যায়। সে ক্ষেত্রে নিতে হবে বাড়তি যত্ন। নিয়মিত গরম তেল মালিশ এবং চুলের ধরন বুঝে হেয়ার প্যাক ব্যবহার করলে যন্ত্র ব্যবহারের কারণে চুলের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। শারমিন কচি বলেন, গরম বাতাসের হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার না করে ঠান্ডা বাতাসেরটি ব্যবহার করতে হবে। আর আয়রন বা হেয়ার কার্লারের তাপ চুলে লাগানোর পর বাড়ি ফিরে নিবিড় কন্ডিশনিং করতে হবে।

 

হেয়ার স্প্রে কি ক্ষতিকর?

স্টাইলিংয়ের জন্য হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করে থাকেন অনেকেই। রূপবিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভালো মানের হেয়ার স্প্রে চুলে প্রতিদিন ব্যবহার করলেও কোনো ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। তবে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার বেশি এটি চুলে রাখা ঠিক নয় বলেও মত দেন তাঁরা। হেয়ার স্প্রে ব্যবহারের পর তেল দিয়ে স্প্রে তুলে ফেলে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। ময়লা চুলে স্প্রে লাগানো যাবে না।

চুল রাঙাব কদিন বাদে?

রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীনের মতে, যখনই মাথায় সাদা চুল দেখা যায়, তখনই চুলে রং করা যাবে। ফ্যাশনের জন্য হলে বছরে দুই থেকে তিনবারের বেশি চুলে রং করা উচিত নয় বলে মনে করেন রূপবিশেষজ্ঞরা। এটাও মনে রাখতে হবে, চুলে যেকোনো রাসায়নিকের ব্যবহারের পরেই বাড়তি যত্ন নেওয়া দরকার। কোনো কোনো রূপবিশেষজ্ঞ মনে করেন, চুলে একবার রং করার পর ছয় মাসের মধ্যে পুনরায় রং করানো উচিত নয়।

 

হজমের সমস্যায় কাজে লাগান আদার টোটকা

আদায় রয়েছে এমন ঔষধিগুণ যা একাধিক রোগ মোকাবিলায় সাহায্য করে। আসুন এবার আদার আশ্চর্য স্বাস্থ্যগুণ সম্পর্কে সবিস্তারে জেনে নেওয়া যাক-

প্রতিদিন সকালে এক কাপ আদা চা খেলেই দূর হবে সর্দি, কাশি, জ্বর ও গা ব্যথা। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যাক্টেরিয়া ঘটিত যে কোনও সংক্রমণ ঠেকাতে আদার রস খুবই কার্যকরী।
  
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে মোক্ষম দাওয়াই হতে পারে আদা। আদা ক্যালরি দ্রুত বার্ন করতে সক্ষম। তাছাড়া আদার রস কার্বোহাইড্রেট দ্রুত হজম করায়, মেটাবলিজম রেট বাড়ায়, ইনসুলিনের নিঃসরণ বাড়ায়। ফলে ওজন সহজেই নিয়ন্ত্রণে থাকে।
 
উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আদা অত্যন্ত কার্যকরী। এর জন্য প্রতিদিন ৭৫ থেকে ১০০ মিলিগ্রাম আদাই যথেষ্ট।
  
গরম পানির সঙ্গে আদা মিশিয়ে খেলে বাতের ব্যথাও কমে। একদল মার্কিন গবেষক দাবি করেন, আর্থ্রাইটিসের মতো সমস্যাও কমে যেতে পারে আদার রসে। এছাড়া হজমের সমস্যা, বুক জ্বালা বা গ্যাস অম্বলে আদা অত্যন্ত কার্যকরী।

জেনে নিন ডাস্ট অ্যালার্জি থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ উপায়

ডাস্ট  অ্যালার্জির কারণে হাঁচি, কাশি ছাড়াও চোখ-নাক থেকে অনবরত পানি ঝড়ার সমস্যা, শ্বাসকষ্ট বা ত্বকে র‌্যাশও দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মুঠো মুঠো অ্যান্টি অ্যালার্জি ওষুধ খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে! তাই ডাস্ট অ্যালার্জির সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অ্যান্টি অ্যালার্জি ওষুধের বিকল্প হিসেবে কয়েকটি ঘরোয়া উপায় কাজে লাগানো যেতে পারে। 

১. বেশি করে সবুজ শাক-সবজি খাওয়া। সবুজ শাক-সবজি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে অ্যালার্জির প্রবণতা কমাতেও সাহায্য করে। সবুজ শাক-সবজি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজের (মিনারেল) যোগান দেয়।

২. ডাস্ট অ্যালার্জির সমস্যায় গ্রিন টি খাওয়া যেতে পারে। গ্রিন টি-এর অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট উপাদান অ্যালার্জির সমস্যার সঙ্গে লড়তে সাহায্য করে। চোখে লাল ভাব, র‌্যাশ বেরনো ইত্যাদি রুখতে এটি অত্যন্ত কার্যকর।

৩. ডাস্ট অ্যালার্জির সমস্যায় ঘি খেয়ে দেখা যেতে পারে। ফল পাওয়া যাবে ম্যাজিকের মতো। ঘি প্রাকৃতিকভাবে যে কোনো ধরনের অ্যালার্জির সমস্যার সঙ্গে লড়াই করতে সক্ষম। এক চামচ ঘি তুলোয় লাগিয়ে সরাসরি র‌্যাশে আক্রান্ত ত্বকে লাগান। ত্বকের জ্বালা ভাব, অস্বস্তি অনেকটাই কমে যাবে। প্রতিদিন ১ চামচ করে ঘি খেতে পারলে ঠান্ডা লাগা বা অ্যালার্জির সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমবে।

৪. মাথা যন্ত্রণা, বন্ধ নাক, চোখ-নাক দিয়ে পানি পড়া ইত্যাদির সমস্যায় একটি পাত্রে গরম পানি নিয়ে তার মধ্যে কয়েক ফোঁটা ইউক্যালিপটাস তেল ফেলে তার ভাপ (ভেপার) নিন। এতে বন্ধ নাক খুলে যাবে, নাকের ভিতরে অ্যালার্জির কারণে হওয়া অস্বস্তিও কমে যাবে। 

রক্তে ইনসুলিনের ভারসাম্য বজায় রাখে ধনেপাতা

অনেকেই মনে করেন, ধনেপাতা শুধু রান্নার স্বাদ বাড়াতে কাজে লাগে। কিন্তু একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা দূর করতেও এর জুড়ি মেলা ভার। আসুন আমাদের আজকের এই প্রতিবেদন থেকে জেনে নেওয়া যাক ধনেপাতার কয়েকটি স্বাস্থ্যগুণ সম্পর্কে যেগুলি হয়তো অনেকেরই অজানা-

১) লিভার বা যকৃতকে সুস্থ রাখতে ধনেপাতা অত্যন্ত কার্যকরী একটি ভেসজ উপাদান। নিয়মিত নির্দিষ্ট পরিমাণে ধনেপাতা খেতে পারলে লিভারের একাধিক সমস্যা থেকে দূরে থাকা যায়।

২) দাঁত ও মাড়ির সুস্থতায় ধনেপাতা অত্যন্ত কার্যকরী একটি ভেসজ উপাদান। ধনেপাতা দাঁতের ফাঁকে ব্যাক্টেরিয়াকে বাসা বাঁধতে বাধা দেয়। ফলে সুস্থ থাকে দাঁত ও মাড়ি।

৩) ধনেপাতায় থাকা আয়রন রক্তাল্পতা রোধে সাহায্য করে।

৪) ধনেপাতার মধ্যে অ্যান্টিসেপটিক উপাদান থাকায় তা শরীরে টক্সিন দূর করতেও সাহায্য করে। এর অ্যান্টিফাঙ্গাল এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট উপাদান বিভিন্ন চর্মরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

৫) ধনেপাতা রক্তে ইনসুলিনের ভারসাম্য বজায় রাখে আর রক্তে শর্করার পরিমাণও নিয়ন্ত্রণে রাখে। 

৬) ধনেপাতা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। 

যেসব কারণে হতে পারে ফুসফুসের ক্যান্সার

গোটা বিশ্বে ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু বদঅভ্যাস বা অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের কারণে ফুসফুসের ক্যান্সার হয়।

অনেকেই জানেন, ধূমপান করলে ক্যান্সারে আক্রান্তের সম্ভাবনা বাড়ে। তবে এটা খুব ধীর গতিতে হয়। এ কারণে বেশিরভাগ ধূমপায়ীরা বুঝতেই পারেন না ধূমপানের অভ্যাস তাকে কিভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ধূমপান ছাড়াও আরও কিছু কারণে ফুসফুসের ক্যান্সারে হতে পারে। যেমন-

১. ধূমপান না করেও অনেকসময় পরোক্ষ ধূমপানের কারণে একজন ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা ধূমপায়ীদের আশেপাশে থাকেন ও ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসেন, তাদেরও ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটা বেড়ে যায়।
২. যাদের পরিবারে ক্যান্সার রোগী রয়েছেন বা ছিলেন তাদেরও ফুসফুসের ক্যান্সার কিংবা অন্য যেকোনো ক্যান্সার হতে পারে। তাই যদি পারিবারিক ইতিহাসে কারও ক্যান্সার আক্রান্ত কেউ থেকে থাকেন, তাহলে অবহেলা না করে  নিয়মিত চেকআপ করানো উচিত।

৩. নিকেল, আর্সেনিক, অ্যাসবেস্টোস, ক্রোমিয়াম বা এই জাতীয় মৌলগুলির সংস্পর্শে অতিরিক্ত আসার ফলে ফুসফুসে ক্যান্সারের ঝুঁকি অন্যান্যদের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ কারণে যারা কল-কারখানায় কাজ করেন, তাদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।

৪. যারা পেশাগত কারণে ক্ষতিকর ধোঁয়ার আশেপাশে দিনের অনেকটা সময় কাটান তাদেরও ফুসফুসে ক্যান্সার হবার ঝুঁকি থাকে। যারা ডাইং ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন এবং রাসায়নিকের ধোঁয়ার আওতায় আসেন, ট্যানারিতে কাজ করেন, গার্মেন্টসে ধোঁয়ার মাঝে কাজ করেন বা রাস্তায় পিচ ঢালাই করেন তাদেরও ফুসফুসের ক্যান্সার হওয়ার  ঝুঁকি থাকে।

৫. বর্তমানে পরিবেশ দূষণ অনেক বেড়ে যাওয়ায় ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। যারা প্রতিদিন রাস্তাঘাটে গাড়ির ধোঁয়ার মধ্যে চলাফেরা করেন, তাদের ক্ষেত্রেই এ ঝুঁকি অনেক বেশি। এ কারণে বায়ুদূষণে হাত থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত মাস্ক কিংবা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। সূত্র: জি নিউজ 

যে ৫ কারণে শসা খাবেন

শশা খুব পরিচিত খাবার। প্রায় সারা বছর ধরে এই ফলটি পাওয়া যায়। শসায় ক্যালরি খুব কম। ১০০ গ্রাম শসাতে থাকে ১৩ ক্যালোরি। এবার শসা খাওয়ার উপকারিতা আমাদের আজকের এই প্রতিবেদন থেকে একবার দেখে নেওয়া যাক-

১) কথায় বলে ডায়াবেটিস থেকে ডায়েরিয়া সকলের জন্যই শসা অপরিহার্য। প্রচণ্ড গরমে দেহের ওয়াটার ইলেক্ট্রোলাইটৈর ভারসাম্য বজায় রাখে শসা। 

২) বদ হজম, অ্যাসিডিটি, অরুচি, গ্যাস্ট্রাইটিস লিভার এবং প্যানক্রিয়াসের সমস্যা থাকলে শসা খাওয়া উচিত।

 

৩) আর্থারাইটিস হার্টের রোগ অস্টিওপোরেসিস এবং কনস্টিপেশন প্রতিরোধে শসা ভালো কাজ করে।

৪) বয়স্কদের মধ্যে অ্যালঝাইমার্স ও অন্যান্য নিউরোলজিক্যাল রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে শসায় থাকা ফিসটিন নামক এক ধরনের আন্টি ইনফ্লামেটরি যৌগ।

৫) এছাড়া কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ ও অন্যান্য প্রদাহজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারে অতি পরিচিত সহজলভ্য এই ফলটি।

কাঁচা পেঁপের নানা গুণ

 কাচাঁ পেঁপেতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন। পেটের সমস্যাসহ বিভিন্ন রকম অসুখ সারাতে কাঁচা পেঁপে খুবই উপকারী। আসুন জেনে নেই কাঁচা পেঁপের স্বাস্থ্যগুণ-

১. ত্বকের সমস্যা ও ক্ষত দূর করে:
পেঁপেতে বিদ্যমান পুষ্টিগুণ ব্রণ ও ত্বকের যে কোন ধরনের সংক্রামক থেকে রক্ষা করে। এমনকি এটি ত্বকের ছিদ্র মুখগুলো খুলে দেয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এটি ফেসপ্যাক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কাঁচা পেঁপে ত্বকের মরা কোষগুলোকে পুনজ্জ্বীবিত করে তুলতে সাহায্য করে।

২. অন্ত্রের চলাচলকে নিয়ন্ত্রণ করে:
পেঁপের বীজে আছে এন্টি-অ্যামোবিক ও এন্টি-প্যারাসিটিক বৈশিষ্ট্য যা অন্ত্রের চলাচলকে নিয়ন্ত্রণ করে। এমনকি এটি বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, এসিড রিফ্লাক্স, হৃদযন্ত্রের সমস্যা, অন্ত্রের সমস্যা, পেটের আলসার ও গ্যাস্ট্রিক সমস্যা থেকেও রক্ষা করে।

৩. হৃদরোগের সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়:
এটি ব্লাড প্রেসার ঠিক রাখার পাশাপাশি রক্তের প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে। এমনকি শরীরের ভেতরের ক্ষতিকর সোডিয়ামের পরিমাণকেও কমিয়ে দেয়। ফলে হৃদরোগের সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়। এ কারণেই হৃদরোগীদের সবসময় পেঁপে খেতে বলা হয়।

৪. ব্যথা নিরাময় করে:
পেঁপের পুষ্টিগুণ যে কোনো ধরনের ব্যথা কমাতে কার্যকারী ভূমিকা রাখে। পেঁপের পাতা, তেঁতুল ও লবণ একসাথে মিশিয়ে পানি দিয়ে খেলে ব্যথা একেবারে ভালো হয়ে যায়।

৫. অতিরিক্ত ক্যালরি ও চর্বি কমিয়ে দেয়:
পেঁপেতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ই ও এ। এগুলো ১০০ গ্রামে মাত্র ৩৯ ক্যালোরি দেয়। এছাড়া এতে বিদ্যমান এন্টি-অক্সিডেন্ট অতিরিক্ত ক্যালরি ও চর্বির পরিমাণ কমিয়ে দেয়। 

দাঁড়িয়ে পানি পান স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়

 দেহের কোষ, কলা বা টিস্যু, বিভিন্ন অঙ্গ তথা মস্তিষ্ক, কিডনী, পাকস্থলী, ত্বক, চুল ইত্যাদির যথাযথ কার্যকারীতার জন্য পানি অত্যাবশ্যকীয়। শরীরের সকল প্রকার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা প্রয়োজন। কিন্তু অনেক সময় ভুল নিয়মে পানি পান করে নিজেকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেই আমরা। দাঁড়িয়ে পানি পান করলে দেখা দিতে পারে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা।

চলুন জেনে নেই দাঁড়িয়ে পানি পানের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে। 

১. দাঁড়িয়ে পানি পান করলে তা সরাসরি পাকস্থলীতে গিয়ে আঘাত করে। স্টমাক থেকে নিঃসৃত অ্যাসিডের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। বদহজমের আশঙ্কা বাড়ে। তলপেটে যন্ত্রণাসহ একাধিক সমস্যা তৈরি হয়।

২. দাঁড়িয়ে পানি পান করা হলে তা দ্রুত কোলন বা মলাশয়ে চলে যায়। ফলে পানির প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপকরণ শরীরে শোষিত হয় না।

৩. গ্যাস্ট্রো ইসোফেগাল রিফ্লাক্স ডিজিজ বা G.E.R.D দাঁড়িয়ে পানি পান করলে তা সরাসরি ইসোফেগাসে গিয়ে ধাক্কা মারে। এরফলে পাকস্থলীর ভেতরের সরু নালিটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যার ফলে গ্যাস্ট্রো ইসোফেগাল রিফ্লাক্স ডিজিজ বা G.E.R.D এর মতো রোগ শরীরে বাসা বাঁধে।

৪. পানি পান করার পরেই ছাঁকনিগুলো শরীর পরিশ্রুত করার কাজ শুরু করে দেয়। দাঁড়িয়ে পানি পান করলে শরীরের অন্দরে থাকা ছাকনিগুলো সংকুচিত হয়ে যায়। পরিশ্রুত করার কাজ বাধা পায়। শরীরে টক্সিনের মাত্রা বাড়তে থাকে।

৫. দাঁড়িয়ে পানি পান করলে নার্ভ উত্তেজিত হয়ে যায়, উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

৬. কিডনি ক্ষতিগ্রস্থ হয় দাঁড়িয়ে পানি পান করলে। এতে কিডনির কর্মক্ষমতা কমে। কিডনি ড্যামেজের সম্ভাবনা থাকে। 

মানবদেহে নতুন অঙ্গের আবিষ্কার

বহু শতাব্দীর গবেষণার পরও মানবদেহে এমন একটি অঙ্গ যে রয়েছে, যা এতদিন চিকিৎসকদের নজরে আসেনি। তবে নেদারল্যান্ডসের একদল বিজ্ঞানী ঠিকই এটা আবিষ্কার করেছেন।

তবে নেদারল্যান্ডসের একদল বিজ্ঞানী প্রোস্টেট ক্যান্সার নিয়ে গবেষণা করার সময় মানুষের গলায় একটি সম্ভাব্য নতুন অঙ্গ খুঁজে পেয়েছেন। বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী ‘লাইভ সায়েন্স’ এর একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লালা গ্রন্থির একটি গুচ্ছ নাকের আড়ালে লুকিয়ে আছে।  

নেদারল্যান্ডসের বিজ্ঞানীরা জানান, তারা আগে উপেক্ষিত গ্রন্থিগুলোর একটি জোড়া আবিষ্কার করেছেন, যা মানুষের খুলিতে লুকিয়ে আছে, যেখানে অনুনাসিক গহ্বর এবং গলা মিলিত হয়েছে। চিকিৎসক গবেষকরা গ্রন্থিগুলোকে ‘টিউবারিয়াল লালা গ্রন্থি’ হিসেবে নামকরণের প্রস্তাব দেন।

নেদারল্যান্ডসের ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের অ্যানকোলজি এবং সার্জারি বিভাগের সার্জন মাথ্যিজস এইচ ভালস্টার বলেন, গবেষণাটি ‘রোমাঞ্চকর’ ছিল। তবে প্রথমে ‘কিছুটা সংশয়ী’ ছিলেন গবেষকরা।

সূত্র: সিএনএন