কিডনি রোগে উপকারী বাঁধাকপি

বাধাঁকপি একটি শীতকালীন সবজি, যা পাতাকপি নামেও প্রচলিত। স্বাদে ও গুণে অতুলনীয় সবজিটি দামে যেমন সস্তা তেমনি পুষ্টিগুণেও ভরপুর। ক্যান্সার প্রতিরোধের পাশাপাশি কিডনি রোগীদের জন্য বেশ উপকারী এই সবজিটি।

বাঁধাকপিতে রয়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধী উপাদান। তাই বাঁধাকপি সেবন ক্যান্সার সৃষ্টিকারী টিউমার বৃদ্ধি রোধ করে। যাদের বুক জ্বালা-পোড়া, পেট ফাঁপার সমস্যা রয়েছে তারা বাঁধাকপি খেতে পারেন। তাহলে এ সমস্যা থেকে মুক্ত পেতে পারেন।

কিডনি সমস্যা প্রতিরোধেও আক্রান্তদের জন্য বাঁধাকপি আরেকটি অপরিহার্য সবজি। যারা কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে ডায়ালাইসিস করিয়ে থাকেন, চিকিৎসকরা তাদের কাচা বাঁধাকপি খাওয়ার পরামর্শ দেন।

এতে আছে টারটারিক অ্যাসিড। চিনি ও শর্করা রূপান্তর হয়ে শরীরে যে চর্বি জমে, টারটারিক অ্যাসিড এই চর্বি জমতে বাধা দেয়। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় বাঁধাকপি রাখুন।

বাঁধাকপিতে আছে উচ্চ আঁশ জাতীয় উপাদান যা হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। এটি বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ একটি সবজি যা চোখের সুরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকরী।

বাঁধাকপিতে প্রচুর পরিমান ভিটামিন আছে যা চুল পড়া সমস্যা রোধ করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। এই সবজিতে আছে প্রচুর আয়রন। তাই যাদের রক্তস্বল্পতা আছে, বাঁধাকপি তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য। 

ক্যান্সারের প্রতিরোধক ফুলকপি

শীতকালীন সবজি ফুলকপি। কিন্তু অনেকেই আছে যারা ফুলকপি পছন্দ করেন না। তাদের জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শ- শীতে খাবারের তালিকায় ফুলকপি রাখা অত্যন্ত জরুরি। ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোকেমিকেলসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদানে ভরপুর এই সবজি। 

চিকিৎসকদের মতে, ক্যান্সার প্রতিরোধক ফুলকপি। ফুলকপির সালফোরাফেন ক্যান্সারের স্টেম সেল ধ্বংস করতে সাহায্য করে এবং বিভিন্ন ধরনের টিউমারের বৃদ্ধি প্রতিহত করে। আর এই সালফোরাফেন উপাদান রক্ত চাপ কমায়। যার ফলে হৃদযন্ত্র ভালো রাখে। 

ফুলকপিতে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি। যা  ‘অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি নিউট্রিয়েন্টস’, যা শরীরের দহন প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। ভিটামিন এবং মিনারেল রয়েছে ফুলকপিতে। শরীরে কর্মক্ষম বজায় রাখার জন্য সঠিক পরিমাণে পুষ্টি জোগায় ফুলকপি। নিয়মিত ফুলকপি খেলে দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়। 

ফুলকপি আপনার মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। ফুলকপিতে আছে ভিটামিন বি যা মস্তিষ্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।  শিশুদের ফুলকপি খাওয়া উচিত। হজমে সহায়ক ফুলকপি। এই সবজি ফাইবার খাবার হজম হতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।  

সপ্তাহে কতদিন গোসল করা স্বাস্থ্যকর?

উত্তরে হাওয়া বইছে, শীতের আভাস পৌঁছেছে এই নগরেও। শেষ রাতে ফ্যান বন্ধ করে দিতে হয়, গায়ে টানতে হয় কাঁথা। যদিও জবুথবু হয়ে স্নানঘরে ঢোকার মতো ঠান্ডা এখনও পড়ছে না, কিন্তু ইতোমধ্যে অনেকের মনে প্রশ্ন উঁকি দিতে শুরু করেছে, রোজই কি গোসল করতে হবে?

যদিওবা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আবহাওয়ার এই দেশে গোসল একরকম রোজকার অভ্যাসের মতো বিষয়, তবু এ নিয়ে নানা রকম মতামত প্রচলিত। গরমে পুকুর বা নদীর পানিতে দাপাদাপি যেমন শান্তির, তেমনি শীতের কয়েক মাস ঠান্ডা পানিতে গোসল করা নিয়ে ভয়ে কুঁকড়ে থাকেন অনেকে।

চলুন জেনে নিই গোসল নিয়ে কিছু দরকারি ও মজার তথ্য।

গোসল শব্দটি কোথা থেকে এলো?

উইকিপিডিয়া বলছে, ‘গুসল’ একটি আরবি শব্দ। নামাজ ও কোরআন পাঠের মতো ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নেবার আগে মুসলমান নারী-পুরুষের বাধ্যতামূলকভাবে পুরো শরীর পবিত্র করার একটি প্রক্রিয়া। অন্যান্য ধর্মের মানুষের ধর্মীয় আচার পালনের সঙ্গেও কোনো না কোনোভাবে গোসলের সংযোগ আছে।

বাংলা একাডেমির অভিধান অনুযায়ী, বাংলা ভাষায় গোসলের সমার্থক শব্দ স্নান বা অবগাহন। 

কতদিন পরপর গোসল করা উচিত?

২০১৯ সালে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল প্রকাশিত এক জার্নালে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের দুই তৃতীয়াংশ নাগরিক প্রতিদিন গোসল করেন। অস্ট্রেলিয়ার ৮০ শতাংশ বাসিন্দা প্রতিদিন গোসল করেন, কিন্তু চীনের অর্ধেক জনগোষ্ঠী সপ্তাহে মাত্র দুইবার গোসল করেন।

কিন্তু মানুষ গোসল কেন করে?

এই প্রশ্নের সোজাসাপ্টা উত্তরে হয়ত বেশিরভাগ মানুষ বলবেন, এটি স্বাস্থ্যকর ও আরামদায়ক বলে তারা বিশ্বাস করেন। তবে সেই সঙ্গে শরীরের ময়লা, ও দুর্গন্ধ দূর করা, সবগুলো স্নায়ু একসঙ্গে সজাগ হয়ে ওঠাসহ নানা করণ এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, কেবল মানুষ নয়, পৃথিবীর প্রায় সকল প্রাণী গোসল করে। ডার্মাটোলজিস্ট ডা. নাহিদ সুলতানা বলেছেন, গোসল সপ্তাহে কতদিন করতে হবে তার নির্দিষ্ট কোনো হিসাব নেই। 

এটি নির্ধারিত হতে হবে একজন মানুষের শারীরিক গঠন, বয়স, পরিবেশ ও প্রয়োজন অনুযায়ী।

ডা. সুলতানা বলেন, ‘স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর ত্বকে সাধারণত নির্দিষ্ট স্তরের তেল, ভালো ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য মাইক্রো-অরগার্নিজমের একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান থাকা জরুরি। ভালো ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রোটিন উৎপাদনে সাহায্য করে।’

তিনি বলেছেন, ‘কিন্তু বেশি গোসল করলে সেটা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যে কারণে বেশিরভাগ মানুষের জন্যই সপ্তাহে কয়েকবার গোসল যথেষ্ট। সবচেয়ে ভালো হয় একদিন পর একদিন গোসল করতে পারলে।’

বেশি গরম পানিতে গোসল করলে, বেশি ক্ষারজাতীয় সাবানের অতিরিক্ত ব্যবহারে শরীরে তেল ও ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
আবার সংক্ষিপ্ত গোসল হতে পারে। সেক্ষেত্রে বগল ও কুচকি পরিষ্কার করে অল্প পানিতে অল্প সময় গোসল যথেষ্ট হবে।

পানি ছাড়া কি গোসল করা যায়?

উত্তর হচ্ছে, হ্যাঁ যায়। কিন্তু সাধারণত গোসলের কথা ভাবলে পানি ভেজা কোনো ছবিই চোখের সামনে ভেসে উঠবে। কিন্তু পৃথিবীর অনেক দেশে যেখানে আবহাওয়া ঠান্ডা, অথবা পানির সংকট আছে, সেখানে মানুষ যতটা সম্ভব কম পানি ব্যবহার করে গোসল করে। কখনো কখনো পানি ছাড়া গোসলের নানা পদ্ধতির কথাও শোনা যায়। যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন সামরিক বাহিনীর সদস্য কিংবা নভোচারীদের মধ্যে পানি ছাড়া গোসলের নানা পদ্ধতির কথা শোনা যায়। 

মাস্ক ব্যবহারের সঠিক নিয়ম ও সাবধানতা

বিশ্বজুড়ে চলছে কভিড-১৯ মহামারীর ক্রান্তিকাল। বিশ্বের অনেক দেশেই শুরু হয়েছে সেকেন্ড ওয়েব বা করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। চলমান জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষের নিজেকে সুরক্ষিত রাখার এখন পর্যন্ত কর্যকরী উপায় হচ্ছে- পারস্পরিক শারীরিক দূরত্ব ৬ ফুট (অন্তত ৩ ফুট) বজায় রেখে চলা ও মাস্ক ব্যবহার করা। এ সময় মাস্ক পরিধান করা যেমন সবার জন্য অপরিহার্য তেমনি করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে ও কমিউনিটিতে এ ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়া রোধে সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। আসুন জেনে নেওয়া যাক করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহারের নিয়মগুলো :

১. মাস্ক পরার আগে হাত ভালোভাবে সাবান পানি দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন।

২. মাস্কটি সতর্কতার সঙ্গে এমনভাবে পরুন যেন তা সম্পূর্ণভাবে নাক ও মুখ ঢেকে রাখে এবং এমনভাবে বাঁধুন যেন মুখ ও মাস্কের মাঝে কোনো ফাঁকা না থাকে।

৩. মাস্কটি পরিহিত অবস্থায় তা হাত দিয়ে স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।

৪. ফোনে কথা বলার সময় বা কারও সঙ্গে কথা বলার সময় মাস্কটি নাক ও মুখ থেকে নিচে নামিয়ে রাখবেন না। মনে রাখবেন মাস্ক পরে কথা বলা কোনো অভদ্রতা বা অশোভন ব্যবহার নয়। এটা আপনার সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

৫. কোনো কারণে পরিহিত মাস্কটি ভিজে বা অপরিষ্কার হয়ে গেলে তা খুলে ফেলে সঙ্গে সঙ্গে আর একটি মাস্ক পরিধান করুন।

৭. মাস্ক পরিধান বা খোলার সময় মাস্কের দুই পাশের ফিতা/ইলাস্টিকটি ব্যবহার করুন, মাস্কের সামনের অংশ স্পর্শ করবেন না। তাই মাস্ক ব্যবহারে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। 

কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ে লজ্জা নয়

কোষ্ঠকাঠিন্য খুবই কঠিন সমস্যা। এমন কোনো ব্যক্তি নেই, যার জীবনে কখনো কোষ্ঠকাঠিন্য হয়নি। এ নিয়ে অনেকেই লজ্জা পায়। যা মোটেও ঠিক নয়। এরকম অবস্থা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য কী : পায়খানা শক্ত বোঝাতে আমরা কোষ্ঠকাঠিন্য শব্দটি ব্যবহার করি। মেডিকেল সাইন্সের পরিভাষায় পায়খানা সপ্তাহে তিনবারের কম অথবা পরিমাণে কম, শক্ত এবং শুকনা হওয়াকে কোষ্ঠকাঠিন্য বলে। কেউ পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার খাওয়ার পরও যদি সপ্তাহে তিনবারের কম মলত্যাগ করেন, তখন সঠিক কারণ নির্ণয় জরুরি।

লক্ষণ বা উপসর্গ : মূল উপসর্গটাই হলো শক্ত ও কঠিন মল। এর সঙ্গে নিম্নে উল্লিখিত এক বা একাধিক উপসর্গও থাকতে পারে। * মলত্যাগে অনেক বেশি সময় লাগা * অনেক বেশি চাপের দরকার হওয়া * অধিক সময় ধরে মলত্যাগ করার পরও অসম্পূর্ণ মনে হওয়া * মলদ্বারের আশপাশে ও তলপেটে ব্যথা * প্রায়ই আঙ্গুল, সাপোজিটরির মাধ্যমে মল বের করার চেষ্টা করা হয়। যা ঠিক নয়।

 

কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ : নানা কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য হতেই পারে। অনেকের এমনিতে কোনো রোগ ছাড়াই কোষ্ঠকাঠিন্য হয় আবার বেশ কিছু রোগের লক্ষণ হিসেবেও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। কিছু কিছু কারণ জীবনযাপনের পদ্ধতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, আর কিছু কিছু হয়ে থাকে বিভিন্ন রোগের লক্ষণ হিসেবে।

অন্য কারণগুলো হচ্ছে : খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন : আঁশযুক্ত খাবার ও শাক-সবজি কম খাওয়া * নিয়মিত ফাস্টফুড খাওয়া * পানি বা তরল খাবার কম খাওয়া * সময়মতো মলত্যাগ না করে চেপে রাখার প্রবণতা। বেশিরভাগ কর্মজীবী মহিলাদের এই অভ্যাসটা আছে। কর্মস্থলের টয়লেট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না হওয়ায় এবং পর্যাপ্ত প্রাইভেসি না থাকায় তারা সাধারণত কর্মস্থলে টয়লেট ব্যবহার করেন না

জটিলতা : দীর্ঘদিন যাবৎ কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগলে অনেক ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন- মল ধরে রাখার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়া * অর্শ বা পাইলস, ফিস্টুলা বা ভগন্দর, এনাল ফিশার বা গেজ রোগ হওয়া * রেকটাল প্রোলাপস তথা মলদ্বার বাইরে বের হয়ে আসা  * ইন্টেস্টাইনাল অবস্ট্রাকশন বা অন্ত্রে ব্লক বা প্যাঁচ লেগে পেট ফুলে যাওয়া।

চিকিৎসা : কোষ্ঠকাঠিন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা। প্রাথমিকভাবে এর চিকিৎসা হচ্ছে- প্রচুর পানি, শরবত বা তরল খাবার পান করা * বেশি করে শাক-সবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া * নিয়মিত ব্যায়াম এবং হাঁটাচলা করা * ইসবগুলের ভুসি, বেল, পেঁপে ইত্যাদি নিয়মিত খাওয়া যায় * সোনাপাতা, এলোভেরা বা ঘৃতকুমারী খেলেও উপকার পাওয়া যায় * হালকা গরম দুধ পান করা। এতে উপকার না হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করতে হবে।  তাই এ বিষয়ে অবহেলা না করে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।

লেখক : ইউজিসি অধ্যাপক ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক

‘প্রচুর পানি, শরবত বা তরল খাবার পান করা * বেশি করে শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া * নিয়মিত ব্যায়াম এবং হাঁটাচলা করা’

শীতের খুসখুসে কাশির পাঁচটি ঘরোয়া চিকিৎসা

প্রকৃতি শীতের আমেজ এসেছে। দেশজুড়ে শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। শীতের সকালে দেশের রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ কুয়াশা পড়ছে। এই সময় কাশি, সর্দি, নিঃশ্বাসে সমস্যা হওয়ার মতো একাধিক শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।

অন্যদিকে দূষণ, যার ফলে খুসখুসে কাশি খুব স্বাভাবিক বিষয়। তাই গলা ঠিক রাখতে, এই সময় কাশি থেকে মুক্তি পেতে বাড়িতে কয়েকটি পদ্ধতি মেনে চলুন। আর এতেই আপনাকে খুসখুসে কাশি থেকে দিবে পরিত্রাণ।

১. ঠাণ্ডা লাগা থেকে মুক্তি দেয় মধু। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টস, অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল ও অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি উপাদান থাকে যা গলায় জমা সর্দি দূর করতে সাহায্য করে। গলা খুসখুস করলে চায়ের সঙ্গে দু’চামচ মধু বা গরম পানি ও লেবুর সঙ্গে দু’চামচ মধু খেলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।

২. লবণ পানিতে গার্গল ফুসফুসে মিউকাস নষ্ট করে, পাশাপাশি ন্যাসাল প্যাসেজ পরিষ্কার হয় নুন জলে গার্গল করলে। কাশি থাকলে এক কাপ ঈষৎ উষ্ণ পানিতে ১/৪ চা চামচ লবণ দিয়ে, তা দিয়ে গার্গল করলে খুব তাড়াতাড়ি উপশম মিলবে। বাচ্চার ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ না করাই ভালো। বাচ্চারা গার্গল করতে গিয়ে লবণ-পানি খেয়ে ফেলে।

৩. ইউক্যালিপটাস ইউক্যালিপটাস এসেনশিয়াল অয়েলও এ ক্ষেত্রে খুবই উপকারী। তাড়াতাড়ি ফল পেতে নারকেল তেল বা অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে বুকে ও গলায় মালিশ করলে উপশম মিলতে পারে। ইউক্যালিপটাস এসেনশিয়াল অয়েলের স্টিম নিলেও নাক ও গলা পরিষ্কার করে যায়।

৪. কাশতে কাশতে গলা ব্যথা হয়ে গেলে পুদিনা সেই ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। দিনে ২-৩ বার পুদিনা দিয়ে বানানো চা খেলে কাশিও কমতে পারে, গলা ব্যথাও বা অস্বস্তিতেও উপশম মিলতে পারে।

৫. সর্দি হলে আদার রস খেলে তা খুব উপকার করে। আদা থেঁতো করে অনেকেই চায়ে দিয়ে দেন। সেই চা খেলেও কাশি কমে। তবে বেশি আদা খাওয়া ভালো না, কারণ এটি পেটের সমস্যা তৈরি করে ও হার্ট বার্নও করে। তাই সামান্য আদা দিয়ে দিনে একবার কয়েকদিন চা বা সরবত খেলে উপশম পাওয়া যেতে পারে।

মেছতার কারণ ও চিকিৎসা

প্রতিদিন চেম্বারে বসে যে রোগীগুলো দেখি তার একটি বড় অংশজুড়ে আছে মুখের বিভিন্ন ধরনের কালো দাগের সমস্যা। আমাদের যে আবহাওয়া, যে ধরনের লাইফস্টাইল তাতে ছেলে-মেয়ে সবারই এ ধরনের সমস্যাগুলো আমরা পাই। বয়সের ক্ষেত্রে ঠিক তাই। ১৬ কিংবা ১৭ বছর বয়স থেকে শুরু করে ৫০ বা ৬০ বছর বয়সের রোগীও আমরা পাই। মুখের বিভিন্ন ধরনের কালো দাগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যাটা দেখা যায় সেটি হচ্ছে- ব্রণের সমস্যা। তাছাড়া রোদেপোড়া দাগ, ছোট-বড় তিল, ব্রণের দাগ, অ্যালার্জিজনিত কারণে কখনো কখনো কিছু কালো দাগ, তাছাড়া চোখের চারপাশের কালো দাগ ও চোখের নিচের গর্ত। আজকে মূলত কথা বলব মেছতার সমস্যা নিয়ে। 

কী এই মেছতা?
এটি একটি বাদামি রঙের দাগ। সাধারণত গালে, নাকের ওপরে, কপালে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়।

বিভিন্ন কারণে হতে পারে মেছতা
সূর্য রশ্মি, চুলার কাছে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করলে কিছু হরমোন, যেমন প্রেগন্যান্সিতে হরমোন রিপ্লেসম্যান্ট থেরাপি, জন্ম বিরতিকরণ পিল গ্রহণের কারণেও এটা হতে পারে।  রং ফর্সা হওয়ার জন্য বাজারে বিভিন্ন ধরনের মেডিসিন পাওয়া যায়। এগুলোতে ক্ষতিকারক বিভিন্ন রাসায়নিক থাকে যা মেছতা হওয়ার বড় কারণ।
(১) মেছতার চিকিৎসায়-এ কার্যকরী কিছু মেডিসিনের মধ্যে একটি হচ্ছে Hydrogeinane। তাছাড়া আরও অনেক ক্রিম আছে যেগুলো একজন চিকিৎসক রোগীর অবস্থা বুঝেই তাকে দিতে পারবেন।
(২) সানব্লক অনেক গুরুত্বপূর্ণ এ ধরনের রোগীদের জন্য। 
(৩) আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থায় অনেক কিছুই আছে যা আমরা মেছতার জন্য ব্যবহার করে যাচ্ছি এবং খুব ভালো ফলাফলও পাচ্ছি। তার অন্যতম কিছু প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে Chemical Peeling; PRP; Microneedling, mesotherapy, Dermal infusion। এই চিকিৎসাগুলো আসলে একজন অভিজ্ঞ Aesthatic Dermatologist ই করতে পারেন।

 

লেখক: সহকারী অধ্যাপক (ডার্মাটোলজি ও ভেনেরিওলজি), নর্দার্ন ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ এবং কনসাল্ট ডার্মাটোলজিস্ট, ইডব্লিউ ভিলা মেডিকা বাংলাদেশ

পায়ের হাড় কেটে লম্বা হওয়ার অপারেশন করেছেন যারা

দীর্ঘদেহী হওয়ার জন্য ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সের মধ্যে অনেকে নানা রকম শরীরচর্চা করেন – এটা শোনা যায়। কিন্তু অপারেশন করিয়ে পায়ের হাড় লম্বা করার মাধ্যমে উচ্চতা বাড়ানোর কথা খুব একটা শোনা যায় না। শুনতে অভিনব মনে হলেও এখন জানা যাচ্ছে, পৃধিবীতে প্রতি বছর শত শত লোক এমন অপারেশন করাচ্ছেন।

এই অস্ত্রোপচার খুবই কষ্টকর, এর দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকিও আছে অনেক, কিন্তু কয়েক ইঞ্চি উচ্চতা বাড়াতে অনেকেই এ কষ্ট ও ঝুঁকি মেনে নিচ্ছেন।

শোনা যাক স্যাম বেকারের অভিজ্ঞতা। হাইস্কুলের শেষ বছরে উত্তীর্ণ হবার সময় স্যাম দেখলেন, তার সহপাঠীরা সবাই ধীরে ধীরে তার চেয়ে লম্বা হয়ে গেছে।

“আমি কলেজে গিয়ে দেখলাম, আমি ছেলেদের চেয়ে তো বটেই – অনেক মেয়ের চেয়েও খাটো” – বলছিলেন তিনি।

‘খাটো ছেলেদের সাথে মেয়েরা প্রেম করতে চায় না’

স্যাম বেকার বলছিলেন, ‘উচ্চতা আপনার জীবনের ওপর অনেক প্রভাব ফেলে। সত্যি বলতে কি অনেক মেয়েই তাদের চেয়ে খাটো ছেলেদের সাথে প্রেম করতে চায়না। সবচেয়ে কষ্টকর যে কথাটা আমার মাথায় ঘুরতো তা হলো – আমি হয়তো জীবনে কাউকে বিয়ে করতেই পারবো না। ‘

স্যামের বয়স ৩০। তিনি থাকেন নিউইয়র্কে। তিনি জানতেন তার উচ্চতা বৃদ্ধির বয়স চলে গেছে, কিন্তু তবুও তার একটা আশা ছিল যে হয়তো তিনি আরো খানিকটা লম্বা হবেন।

‘আমার মনে হতো, লম্বা হবার সাথে জীবনে সাফল্যের সম্পর্ক আছে। তাই আমি আমার নিজের মতো করে ব্যাপারটার একটা সমাধানের উদ্যোগ নিলাম।’

খোঁজখবর নিয়ে, কিছু গবেষণা করে তিনি দেখলেন, উঁচু হিলের জুতো পরা বা স্ট্রেচিং করার মতো সমাধানে তিনি আকৃষ্ট বোধ করছেন না।

কিন্তু পা লম্বা করার অপারেশনের কথা জানার পর ব্যাপারটা তাকে চমৎকৃত করলো। তিনি এ নিয়ে খোলাখুলি কথা বললেন তার মায়ের সাথে, এবং ঝুঁকিগুলো বিবেচনা করলেন।

তারপর তার মনে হলো, অপারেশন টেবিলই তার সমস্যার সমাধান।

স্যাম অপারেশনটা করালেন ২০১৫ সালে। তিনি ছিলেন ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি লম্বা। আর এখন তার উচ্চতা হয়েছে ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি (১৭০ সেন্টিমিটার)।

আমি কি হাঁটতে পারবো?

স্যাম বলছিলেন, ‘ডাক্তার আমাকে অপারেশন নিয়ে কথা বলার সময় পরিষ্কার করেই বুঝিয়েছিলেন যে এই শল্যচিকিৎসা অত্যন্ত কঠিন।’

‘আমি নিজে উদ্বিগ্ন ছিলাম যে তিন ইঞ্চি লম্বা হবার পর আমার ঠিক কি অবস্থা হবে। আমি কি হাঁটতে পারবো? দৌড়াতে পারবো? এ প্রশ্নগুলোই মাখায় ঘুরছিল।’

‘অপারেশনের পর সপ্তাহে তিন-চারদিন কয়েক ঘন্টা করে আমাকে ফিজিওথেরাপি নিতে হতো। এটা চলেছিল প্রায় ৬ মাস।’

‘লোকে এটাকে কসমেটিক সার্জারি বলে, কিন্তু আমি এটা আসলে করিয়েছিলাম আমার মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভেবে।’ 

বহু দেশে এখন এ অপারেশন হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেন, ইতালি, তুরস্ক এমনকি ভারত সহ ১২টিরও বেশি দেশে পা লম্বা করার অপারেশন করা হচ্ছে এখন।

কোনো কোনো ব্যক্তি এর মাধ্যমে প্রায় ৫ ইঞ্চি পর্যন্ত উচ্চতা বাড়াতে পেরেছেন। ঠিক কত লোক এই অপারেশন করান তা বলা কঠিন। কিন্তু বিবিসি এ নিয়ে বেশ কিছু দেশের ক্লিনিকের সাথে কথা বলেছে।

ক্লিনিকগুলো বলছে, এর জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতি বছর ১০০ থেকে ২০০টি এ অপারেশন হচ্ছে। অন্য দেশগুলোতে অপেক্ষাকৃত কম -প্রতি বছর ২০ থেকে ৪০টি।

যুক্তরাজ্যে আরও কম- বছরে ১৫টি অপারেশনের কথা জানতে পেরেছে বিবিসি, তবে সর্বত্রই এ সংখ্যা বাড়ছে।

কীভাবে অপারেশন করে পা লম্বা করা হয়?

প্রথমে পায়ের হাড়ে একটি ছিদ্র করা হয়। তারপর সেই হাড় কেটে দু-টুকরো করে তার ভেতরে একটি ধাতব রড ঢুকিয়ে দিয়ে তা স্ক্রু দিয়ে এঁটে দেওয়া হয়। এরপর রডটার দৈর্ঘ্য প্রতিদিন এক মিলিমিটার করে ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়। এভাবে রোগীর ইচ্ছা অনুযায়ী উচ্চতা অর্জন করা, এবং হাড় জোড়া লাগা পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলে।

অত্যন্ত ব্যয়বহুল অপারেশন

যুক্তরাজ্যে কেয়ার কোয়ালিটি কমিশন নিয়ন্ত্রিত কিছু প্রাইভেট ক্লিনিকে এ অপারেশন হয়, যাতে খরচ পড়ে ৫০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ জন্য ৭৫ হাজার ডলার থেকে ২ লক্ষ ৮০ হাজার ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।

এটি একটি দীর্ঘ, বেদনাদায়ক ও ব্যয়বহুল অপারেশন। এই অপারেশনের কৌশল আবিষ্কার করেন একজন সোভিয়েত ডাক্তার গাভরিল ইলিজারভ। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে ফিরে আসা আহত সৈন্যদের চিকিৎসা করতেন। গত ৭০ বছরে এই অপারেশনে কিছু পরিবর্তন হয়েছে তবে মূল কৌশল এখনো প্রায় একই আছে।

প্রতি মুহুর্তে জটিলতা দেখা দেবার ঝুঁকি

এরপর রোগীকে কয়েক মাস ধরে ফিজিওথেরাপি করতে হয় তার হাঁটাচলার শক্তি ফিরে পাবার জন্য।
এসময় প্রতি মুহুর্তে জটিলতা দেখা দেবার ঝুঁকি থাকে। এর মধ্যে স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি, রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়া বা পায়ের হাড়ের জোড়া না লাগার মত যে কোনরকম সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এই অভিজ্ঞতা হয়েছে বার্নি নামে একজনের। তিনি ২০১৫ সালে এই অপারেশন করিয়ে ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি থেকে ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়েছিলেন। অপারেশনের সময় তার বয়স ছিল ৪৬। 

অপারেশনের পরে দেখা গেল, তার পায়ের হাড় বেড়ে জোড়া লাগছে না। তার দু পায়ের হাড়ের মাঝখানে তিন ইঞ্চি পরিমাণ অংশ ধাতব রড, তার দু’পাশে হাড়।

তিনি হাঁটতে পারতেন, কিন্তু অনুভব করতেন প্রচণ্ড ব্যথা। তার সাথে ছিল এই মানসিক যন্ত্রণা যে, এখন হয়তো আর কিছুই করার নেই। তবে পাঁচ বছর পর তার হাড় জোড়া লাগে এবং ধাতব রড অপসারণ করা হয়।

বার্নি বলছেন, ‘আমার সেরে উঠতে বহু সময় লাগবে। কিন্তু এতদিন পর হলেও আমার মনে হচ্ছে অপারেশন করা সার্থক হয়েছে। আমি খর্বকায় মানুষদের যে বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গীর শিকার হতে হয় – তা থেকে মুক্তি পেয়েছি।’

তবে এই অপারেশনের পর কতজনের ক্ষেত্রে জটিলতা হয় – তার কোন নির্ভরযোগ্য উপাত্ত নেই। তবে ব্রিটিশ অর্থপেডিক সমিতির অধ্যাপক হামিশ সিম্পসন বলছেন, এর ঝুঁকি অনেক।

‘আগের চাইতে এখন এ অপারেশনের প্রযুক্তি উন্নত এবং অধিকতর নিরাপদ হয়েছে। কিন্তু এই অপারেশনের পর নতুন হাড়, মাংসপেশী, স্নায়ু, রক্তবাহী নালী এবং চামড়া তৈরি হতে হয় – তাই প্রক্রিয়াটা এখনও অত্যন্ত জটিল রয়ে গেছে।  জটিলতা দেখা দেবার হারও উঁচু’- বলেন প্রফেসর সিম্পসন। 

নারীর পিসিওডির সমস্যা দূর হবে যেভাবে

পিসিওডি কেন হয়, তা নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে মতভেদ আছে। নারীর এই পিসিওডির সমস্যা কী? এ রোগের উপসর্গ কী? কীভাবে তা দূর করবেন? এ নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো। 

পিসিওডি কী এবং কেন হয়?

পিসিওডি সম্পূর্ণ নাম পলিসিস্টিক ওভারিয়ান ডিজিজ। পলি কথার অর্থ হলো অনেক। অর্থাৎ পিসিওডি কথাটির বাংলায় অর্থ দাঁড়ায় ওভারি অর্থাৎ ডিম্বাশয়ে অনেকগুলো সিস্ট। পিরিয়ড শুরু হওয়ার পর একজন নারীর ডিম্বাশয় থেকে প্রতি মাসেই ডিম নির্গত হয়। যৌন সঙ্গম না করলে সেই ডিমগুলো রক্তের মাধ্যমে দেহ থেকে বের হয়ে যায়।

কিন্তু পিসিওডির ক্ষেত্রে হরমোনের তারতম্য ঘটায় তাতে সমস্যা দেখা দেয়। সেই অপরিণত ডিমগুলোই দেহ থেকে বের না হতে পেরে ক্রমে তা জমে জমে সিস্টের আকার নিতে শুরু করে। শুরু হয় সমস্যার।

চিকিৎসকদের একটা বড় অংশ মনে করেন, ওবেসিটি এই রোগের অন্যতম কারণ। তবে ওবেস নেই এমন নারীও পিসিওডিতে আক্রান্ত হয়েছেন, এমনটা প্রায়ই দেখা যায়। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকরা দায়ী করেছেন, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রাকে। অত্যধিক পরিমাণে ফাস্টফুড, রেড মিট খেলেও দেখা দিতে পারে এই রোগ। মূত্রনালির সংক্রমণ অথবা স্ট্রেসের কারণেও শরীরে বাসা বাঁধতে পারে এই রোগ।

রোগের উপসর্গ

>> অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা
>> পেটে ব্যথা
>> নিয়মিত পিরিয়ড হলেও তা দীর্ঘায়িত হওয়া
>> সন্তান ধারণে অক্ষমতা
>> চুল পড়ার সমস্যা
>> ব্রণের সমস্যা
>> অবাঞ্ছিত রোমবৃদ্ধি
>> মানসিক অস্থিরতা বৃদ্ধি

নিরাময়

এ রোগ প্রথম দিকে ধরা না পড়ার সম্ভাবনাই বেশি। উল্লিখিত উপসর্গগুলোর যে কোনও একটি পরিলক্ষিত হলেই সচেতন হন। প্রথম অবস্থায় ধরা পড়লে এই রোগ নিরাময় সম্ভব জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমেই। বর্জন করতে হবে বাইরের খাবার, ফাস্ট ফুড। কমাতে হবে ওজন। নিয়মিত ব্যয়াম, যোগাভ্যাস করে শরীর রাখতে হবে ফিট। অনিয়মিত পিরিয়ড হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 

বাদাম খাওয়ার স্বাস্থ্যগত উপকারিতা

বাদাম খেলেই ওজন বাড়ে, এই ধারণা একদমই ভুল। আকারে ছোট হলেও বাদামে বিভিন্ন খনিজ এবং পুষ্টিগুণ রয়েছে। যা শীতের মৌসুমে শরীরের তাপ মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী করে তোলে। করোনা আবহে ইমিউনিটি বাড়াতে অনেকেই তাদের ডায়েটের পরিবর্তন এনেছেন। কিন্তু আপনার ডায়েটে বাদাম আছে কি? কোন বাদাম কতটা খাবেন জেনে নিন।

আমন্ড বা কাঠবাদাম:

শীতের দিনে চারটি করে কাঠবাদাম খাওয়ার অভ্যেস করুন। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ভিজিয়ে রেখে এবং সকালে খালি পেটে খান। এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ই, এ, বি ১, বি ৬, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাসিয়াম। যা চুল এবং ত্বক দুইটার জন্যই ভালো। কাঠবাদাম রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মত জটিল রোগের ঝুঁকি কমায়। ওজন নিয়ন্ত্রণ ও এনার্জি বুস্ট আপ করে কাঠবাদাম। পড়াশোনা মনে রাখার জন্য বাচ্চাদের প্রতিদিন কাঠবাদাম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।

আখরোট: 

অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টস এবং ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ আখরোট আপনার স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। এর মধ্যে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট রয়েছে যা ত্বকের আর্দ্রতা সঠিক মাত্রায় বজায় রাখতে সহায়তা করে। প্রতিদিনের খাবার যেমন- সালাদ, কেক, কুকিস বা বিকেলের স্ন্যাক্স-এর মধ্যে আখরোট রাখুন। 

কাজু বাদাম:

কাজু বাদাম খেলে ওজন বৃদ্ধি পায় সঠিক। কিন্তু প্রত্যেক দিন পরিমিত মাত্রায় খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণেই থাকে। শীতকালে দিনে দু-তিনটি কাজুবাদাম খাওয়া খুবই ভাল। শরীর গরম থাকার পাশাপাশি কাজ করার এনার্জি বেড়ে যায়। তবে কাজু বরফি এড়িয়ে চলুন বরং সুজি, চিড়ের পোলাও বা পায়েস রান্নায় কাজুর ব্যবহার করতে পারেন। 

চিনাবাদাম: 

চিনাবাদাম আমাদের সবারই পছন্দের একটি খাবার। এতে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টস, খনিজ ও ভিটামিন গুলো সঠিক মাত্রায় থাকায় কার্ডিওভাসকুলার, কোলেস্টেরল এমনকি ক্যানসারের মত কঠিন রোগ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। 

পেস্তা:

অন্যান্য বাদামগুলির তুলনায় দাম একটু বেশি হলেও এর পুষ্টিগুণ অনেক। পেস্তা বাদাম খেতে খুবই সুস্বাদু। তাই পায়েস, অথবা কোনও মিষ্টির উপরে গার্নিশ করতে এর ব্যবহার চোখে পড়ে। এটি ওজন হ্রাস, রক্তচাপ, রক্তে শর্করার পরিমাণ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।