দাঁড়িয়ে পানি পান স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়

 দেহের কোষ, কলা বা টিস্যু, বিভিন্ন অঙ্গ তথা মস্তিষ্ক, কিডনী, পাকস্থলী, ত্বক, চুল ইত্যাদির যথাযথ কার্যকারীতার জন্য পানি অত্যাবশ্যকীয়। শরীরের সকল প্রকার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা প্রয়োজন। কিন্তু অনেক সময় ভুল নিয়মে পানি পান করে নিজেকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেই আমরা। দাঁড়িয়ে পানি পান করলে দেখা দিতে পারে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা।

চলুন জেনে নেই দাঁড়িয়ে পানি পানের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে। 

১. দাঁড়িয়ে পানি পান করলে তা সরাসরি পাকস্থলীতে গিয়ে আঘাত করে। স্টমাক থেকে নিঃসৃত অ্যাসিডের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। বদহজমের আশঙ্কা বাড়ে। তলপেটে যন্ত্রণাসহ একাধিক সমস্যা তৈরি হয়।

২. দাঁড়িয়ে পানি পান করা হলে তা দ্রুত কোলন বা মলাশয়ে চলে যায়। ফলে পানির প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপকরণ শরীরে শোষিত হয় না।

৩. গ্যাস্ট্রো ইসোফেগাল রিফ্লাক্স ডিজিজ বা G.E.R.D দাঁড়িয়ে পানি পান করলে তা সরাসরি ইসোফেগাসে গিয়ে ধাক্কা মারে। এরফলে পাকস্থলীর ভেতরের সরু নালিটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যার ফলে গ্যাস্ট্রো ইসোফেগাল রিফ্লাক্স ডিজিজ বা G.E.R.D এর মতো রোগ শরীরে বাসা বাঁধে।

৪. পানি পান করার পরেই ছাঁকনিগুলো শরীর পরিশ্রুত করার কাজ শুরু করে দেয়। দাঁড়িয়ে পানি পান করলে শরীরের অন্দরে থাকা ছাকনিগুলো সংকুচিত হয়ে যায়। পরিশ্রুত করার কাজ বাধা পায়। শরীরে টক্সিনের মাত্রা বাড়তে থাকে।

৫. দাঁড়িয়ে পানি পান করলে নার্ভ উত্তেজিত হয়ে যায়, উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

৬. কিডনি ক্ষতিগ্রস্থ হয় দাঁড়িয়ে পানি পান করলে। এতে কিডনির কর্মক্ষমতা কমে। কিডনি ড্যামেজের সম্ভাবনা থাকে। 

মানবদেহে নতুন অঙ্গের আবিষ্কার

বহু শতাব্দীর গবেষণার পরও মানবদেহে এমন একটি অঙ্গ যে রয়েছে, যা এতদিন চিকিৎসকদের নজরে আসেনি। তবে নেদারল্যান্ডসের একদল বিজ্ঞানী ঠিকই এটা আবিষ্কার করেছেন।

তবে নেদারল্যান্ডসের একদল বিজ্ঞানী প্রোস্টেট ক্যান্সার নিয়ে গবেষণা করার সময় মানুষের গলায় একটি সম্ভাব্য নতুন অঙ্গ খুঁজে পেয়েছেন। বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী ‘লাইভ সায়েন্স’ এর একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লালা গ্রন্থির একটি গুচ্ছ নাকের আড়ালে লুকিয়ে আছে।  

নেদারল্যান্ডসের বিজ্ঞানীরা জানান, তারা আগে উপেক্ষিত গ্রন্থিগুলোর একটি জোড়া আবিষ্কার করেছেন, যা মানুষের খুলিতে লুকিয়ে আছে, যেখানে অনুনাসিক গহ্বর এবং গলা মিলিত হয়েছে। চিকিৎসক গবেষকরা গ্রন্থিগুলোকে ‘টিউবারিয়াল লালা গ্রন্থি’ হিসেবে নামকরণের প্রস্তাব দেন।

নেদারল্যান্ডসের ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের অ্যানকোলজি এবং সার্জারি বিভাগের সার্জন মাথ্যিজস এইচ ভালস্টার বলেন, গবেষণাটি ‘রোমাঞ্চকর’ ছিল। তবে প্রথমে ‘কিছুটা সংশয়ী’ ছিলেন গবেষকরা।

সূত্র: সিএনএন   

করোনাকালীন সময়ে এক কোটি মানুষকে সেবা প্রদান করেছে ‘স্বাস্থ্য বাতায়ন- ১৬২৬৩’

করোনাকালীন সময়ে ১ কোটির বেশি মানুষকে সেবা প্রদান করেছে ‘স্বাস্থ্য বাতায়ন-১৬২৬৩’।  গত ১লা মার্চ থেকে ২০ শে অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ১,০১,৭৫,০৮০ জন মানুষ স্বাস্থ্য বাতায়ন থেকে বিভিন্ন পরিষেবা গ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে ৮৬,৪৮,৮১৮ জনই করোনাভাইরাস বিষয়ে ফোন করেছেন। 

করোনাকালীন সময়ে দেশের প্রতি ১৬ জন মানুষের মধ্যে একজন নিয়েছেন এই টেলিহেলথ  সেবা। ২০১৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সেবা গ্রহণ করেছেন ১ কোটি ৫২ লক্ষ মানুষ। স্বাস্থ্য বাতায়ন বাংলাদেশের প্রথম এবং বৃহত্তম টেলিহেল্‌থ সেন্টার যা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস বিভাগের উদ্যোগে এবং দেশের প্রথম স্তরের আইসিটি এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘সিনেসিস আইটির’ সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে পরিচালিত হচ্ছে।      

এ বিষয়ে সিনেসিস হেলথ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাঃ নিজামউদ্দিন আহমেদ বলেন, করোনাকালীন সময়ে ‘স্বাস্থ্য বাতায়ন’ কল সেন্টারের মাধ্যমে বহুমাত্রিক সেবা প্রদান করা হচ্ছে এবং সেবাটি মানুষের কল্যাণে ব্যাপকভাবে ভূমিকা রেখেছে। প্রতিদিন ২০০ ডাক্তার এই সেবা প্রদান করে আসছে এবং প্রতিদিন প্রায় ৩ লক্ষ মানুষকে সেবা প্রদান করার সক্ষমতা রাখে স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩। 

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য বাতায়নের মাধ্যমে ডাক্তারের চিকিৎসা ও পরামর্শ সেবার পাশাপাশি জরুরী অ্যাম্বুলেন্স সেবা, স্বাস্থ্য তথ্য সেবা, সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসা সেবা সম্পর্কে অভিযোগ গ্রহণ, দুর্ঘটনা জনিত চিকিৎসা সেবা ইত্যাদি প্রদান করা হয়। 

তিনি জানান, এছাড়াও বিশেষজ্ঞ সেবার জন্য বঙ্গবন্ধু মেডিকেল হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ কল সেন্টারে ফোন ট্রান্সফার করার ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের দ্বারা মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদান, মা ও শিশু বিশেষজ্ঞদের মাধমে সেবা প্রদান ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য সেবা দেওয়া হয় স্বাস্থ্য বাতায়ন এবং সিনেসিস হেলথ থেকে।

তিনি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও যেন সবার মত স্বাস্থ্য সেবা পায় সে লক্ষ্যে স্বাস্থ্য বাতায়ন প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তির সক্ষমতা দিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষকে সেবা প্রদান এবং করোনাকালীন সময়ে ১ কোটির ও বেশি মানুষকে সেবা প্রদান করা হয়েছে যাদের মধ্যে প্রায় ৮২ ভাগ মানুষ করোনা সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ করেছেন। আমরা দেখেছি দেশে অসংক্রামক ব্যাধির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে ৬৭ ভাগ মানুষ বিভিন্ন অসংক্রামক ব্যাধিতে প্রতি বছর মারা যাচ্ছে, এ অবস্থায় করোনা সংক্রান্ত সেবা প্রদানের পাশা পাশি ভবিষ্যতে অসংক্রামক ব্যাধি যেমন ক্যান্সার, হৃদরোগ, কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি নিয়ে সেবা প্রদান করার পরিকল্পনা রয়েছে স্বাস্থ্য বাতায়নের।

স্বাস্থ্য বাতায়ন সেবাটি ২০১৫ সাল থেকেই মানুষকে টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে আসছে। ল্যান্ড-লাইন বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ‘১৬২৬৩’ নাম্বারটিতে কল করার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা ব্যাপী চিকিৎসকের পরামর্শসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যাচ্ছে। চিকিৎসকেরা রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন মুঠোফোনের মাধ্যমে। এরপর চিকিৎসকগণ স্বাস্থ্য বাতায়নের সিআরএম থেকে অটোমেটিক এস-এম-এস এর মাধ্যমে ই-প্রেসক্রিপশন পাঠিয়ে দিচ্ছেন এবং সে অনুযায়ী রোগীরা পরামর্শ গ্রহণ করছেন এবং ঔষধ সেবন করছেন। বর্তমানে স্বাস্থ্য বাতায়নের সক্ষমতা এবং পরিষেবাগুলো উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।   

বিরল রোগের সন্ধান, রক্ত জমাট বেঁধে কেড়ে নিচ্ছে পুরুষদের প্রাণ!

পুরুষদের শরীরে অজান্তে বাসা বাঁধছে নতুন অসুখ। এমন এক ভয়ঙ্কর অসুখের সন্ধান পেলেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের কথায়, মারাত্মক সে রোগ প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে প্রায় ৪০ শতাংশ পুরুষের।  এই রোগের মধ্যে শিরাতে রক্ত জমাট থেকে শুরু করে রয়েছে একাধিক উপসর্গ। এই রোগকে vacuoles, E1 catalyst, X-connected, autoinflammatory and physical condition – VEXAS বলা হচ্ছে।

এই রোগে ঘন ঘন জ্বর আসছে রোগীদের। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ভেক্সাসের কারণে শিরাতে রক্ত জমাট বাঁধা, বারবার জ্বর, ফুসফুস অস্বাভাবিকতা এবং শরীরের কোষগুলোতে শূন্যতার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

ইউবিএ ওয়ান জিনের পরিবর্তনের ফলে এই রোগ দেখা দিচ্ছে এবং এর দ্বারা আক্রান্ত ৪০ শতাংশ রোগী মারা যাচ্ছে। গবেষকদের এই অনুসন্ধান নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত হয়েছে।

২,৫০০ জনের ওপর গবেষণা করা হয়েছে। গবেষণা পরিচালনা করেছেন ন্যাশনাল হিউম্যান জিনোম রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এনএইচজিআরআই) এর বিশেষজ্ঞরা। যার মধ্যে ৮০০ এর বেশি সংখ্যক মানুষের শরীরে এই রোগের উপসর্গ পাওয়া গেছে।

এই রোগ বিপজ্জনক হতে পারে বলে শঙ্কিত বিশেষজ্ঞরা। এই রোগের ক্ষেত্রে সারা শরীরে ব্যথা শুরু হয়।

জাতীয় মানব জিনোম গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইনট্রামালাল রিসার্চ প্রোগ্রামের  প্রধান ড. ড্যান কাস্টনার বলেছেন, “এটিতে আক্রান্ত রোগীরা খুব দুর্বল হয়ে পড়ে, কোনও ড্রাগই  কাজ করে না। ২৫০০ জনর মধ্যে অজানা রোগে আক্রান্ত প্রায় ৮০০, বাকি ২০০ জনের শরীরে জ্বর ও ব্যাথা রয়েছে। সূত্র: ডেইলি মেইলএনবিসিনিউজ 

শরীরচর্চা কতক্ষণ?

শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য শরীরচর্চা অনেক জরুরি। তবে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি শরীরচর্চা করলে অনেক সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে কি পরিমাণ ব্যায়াম একজন মানুষের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তা আগে জানতে হবে।

শরীরচর্চা কেবল শরীরকে নির্দিষ্ট শেপেই রাখে না বরং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সেই সাথে মানসিক অবসাদকে দূরে রাখে। একটা বিষয় অস্বীকার করার উপায় নেই যে শরীর চর্চা স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

যোগব্যায়াম, নৃত্য, সাঁতার, জগিং এবং সাইক্লিংসহ আপনি বেছে নিতে পারেন এমন বিভিন্ন শরীরচর্চা রয়েছে, যা আপনার মন মেজাজ ভালো রাখবে এবং পেশীকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। নিয়মিত ব্যায়াম করার কোন বিকল্প নেই। তবে তা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হয় তবে সেক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

শরীরচর্চা উপকারী কেন?

গবেষকরা বলছেন ব্যায়াম করলে শরীরের পাশাপাশি মনও অনেক ভালো থাকে। আপনি যখন ব্যায়াম করার জন্য নিজের শরীর নড়াচড়া করেন তখন সেরোটোনিনের মত হরমনগুলো শরীর থেকে নিঃসৃত হয় যা মন মেজাজ ভালো রাখে। ব্যায়াম করলে মেটাবলিজম বাড়ে সেই সাথে হৃদযন্ত্রও ভালো রাখে। এতে করে আপনার শরীরে ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে শরীরে রোগ বালাই এর ঝুঁকিও কমে। বিশেষত যারা হাড় পেশী শক্তিশালী করতে চায় তাদের জন্য ব্যায়াম করার বিকল্প নেই।

একদিনে কি পরিমাণ ব্যায়াম করবেন?

প্রথমেই একটা জিনিস মনে রাখতে হবে একেকজনের শরীরের গঠন একেক রকম। সেই হিসেবে শরীরচর্চায়ও আসবে ভিন্নতা। আপনি যদি এমন কেউ হন ব্যায়াম করতে অভ্যন্ত না হন সেক্ষেত্রে ধীরে ধীরে শুরু করেন। গবেষকরা বলছেন, প্রতি সপ্তাহে ১৫০ থেকে ৩০০ মিনিট মাঝারি ব্যায়াম বা ৭৫ থেকে ১৫০ মিনিট উচ্চ গতিতে ব্যায়াম করা উচিত। পেশী শক্তিশালী করণের জন্য সপ্তাহে অন্তত দুদিন ব্যায়াম করাও অনেক কষ্টকর।

প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যায়াম কখন হয়?

আপনি মনে করতে পারেন কয়েক ঘন্টা জিমে ঘাম ঝরালে তা আপনার জন্য উপকারী প্রত্যেক ব্যক্তির হিসেবে ব্যায়ামের ধরণে পার্থক্য হবে। উদাহরণস্বরূপ অ্যাথলেটদের প্রতিদিন কয়েক ঘন্টা জিমে ব্যয় করতে হয় কারণ এটি তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু আপনার আমার এত সময় নেই। যারা খাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে এই ব্যাখ্যা ভিন্ন হতে পারে।

তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে শরীরে কিছু লক্ষণ দেখা দেবে।

> হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া

> ক্ষুধা কমে যাওয়া

> পায়ে অস্থিরতা

> ডিহাইড্রেশন

> ঘুম কম  হওয়া বা ইনমসনিয়ায় ভোগা

> মেজাজ খিটখিটে

> হাড় দূর্বল হয়ে যাওয়া

> তীব্র ক্লান্তি

আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ব্যায়াম করলে ক্ষুধা বাড়ে সেক্ষেত্রে বেশি খাওয়া হয়ে যায়,এমনকি অনেক সময় হরমোনের ভারসাম্যহীনতাও দেখা দেয়।

সুতরাং, আপনিই দেখুন, কি পরিমাণ ব্যায়াম আপনার শরীরের জন্য ভাল কারণ কোন কিছু অত্যাধিক ভালো না। 

স্বাস্থ্য বাতায়নে যুক্ত হল নতুন ৩ সেবা

জাতীয় স্বাস্থ্য সেবার কল সেন্টার ‘স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩’-এ যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন আরো তিন স্বাস্থ্যসেবা। এগুলো হলো যৌন স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবা। সোমবার এক প্রেস বিজ্ঞতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞতিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য বাতায়নের ডাক্তারদের যৌন স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা সম্পর্কে আরো দক্ষ করে তুলতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, আন্তর্জাতিক সংগঠন আইপাস বাংলাদেশ এবং দেশের প্রথম সারির আইসিটি ও সর্ববৃহৎ ডিজিটাল স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সিনেসিস আইটির সমন্বয়ে তিনদিনব্যাপী প্রশিক্ষণে ৯০ জন চিকিৎসক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

এই প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাহান আরা বানু এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মা ও শিশুসেবা, লাইন ডিরেক্টর (এমসি-আরএএইচ) ডা. মোহাম্মাদ শরীফ, এমআইএস ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ই-হেলথ বিভাগের পরিচালক ডা. হাবিবুর রাহমান। আরও উপস্থিত ছিলেন আইপাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডাক্তার সৈয়দ রুবাইয়াত, সিনেসিস আইটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহরাব আহমেদ চৌধুরী এবং সিনেসিস হেলথ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. নিজাম উদ্দিন আহমেদ।  

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস ও ই-হেলথ বিভাগের পরিচালক ডা. হাবিবুর রাহমান বলেন, স্বাস্থ্য বাতায়ন দেশের জনগণকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। সিনেসিস আইটির পরিচালনায় এটি এখন আর কল সেন্টারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, স্বাস্থ্য বাতায়ন এখন স্বাস্থ্যসেবার ডিজিটাল হাসপাতাল হিসেবে কাজ করছে। করোনাকালীন সময়ে স্বাস্থ্য বাতায়নের বেশ অগ্রগতি হয়েছে।

এই প্রকল্পটির মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর এবং আইপাস বাংলাদেশের সাথে কাজ শুরু করলো সিনেসিস আইটি’র সিনেসিস হেল্‌থ বিভাগ। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ৯০ জন ডাক্তার ৩ দিনে সকাল ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। ডা. মোহাম্মাদ আবুল খায়ের, সিনিয়র উপদেষ্টা, স্বাস্থ্য সেবা, আইপাস বাংলাদেশ এবং ডা. সায়েদা খাদিজা আক্তার, উপদেষ্টা, আইপাস বাংলাদেশ এই প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন।

সিনেসিস হেলথ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. নিজামউদ্দিন আহমেদ জানান, বাংলাদেশ সরকারের অধীনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে গত ২০১৫ সাল থেকে স্বাস্থ্য বাতায়ন দেশের জনগণকে নিরলসভাবে সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। ২০১৭ সালের পর থেকে এই সেবার বেশ উন্নয়ন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সেবাগুলো উন্নীতকরণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি, তারই ধারাবাহিকতায় আজ পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাথে আমরা যুক্ত হতে পেরে বেশ আনন্দিত। এই প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম ভবিষ্যতের পরিবার পরিকল্পনায় আরও বেশি যুগ উপযোগী স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের অনুপ্রেরণা যোগাবে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাহান-আরা বানু বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেকেই পরিবার পরিকল্পনা বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না। আমার বিশ্বাস স্বাস্থ্য বাতায়নের মাধ্যমে দেশের জনগণকে প্রজনন স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতন এবং পরামর্শ প্রদান স্বাস্থ্য সেবায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

আইপাস বাংলাদেশের (Ipas, Bangladesh) কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. সৈয়দ রুবাইয়াত জানান, আইপাস বাংলাদেশ যৌন স্বাস্থ্য এবং প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে বহু বছর ধরে কাজ করে আসছে, আমরা আশা করছি এই উদ্যোগ আমাদের সেই প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।  

এছাড়াও মা ও শিশু সেবা, লাইন ডিরেক্টর (এমসি-আরএএইচ), পরিচালক ডা. মোহাম্মাদ শরীফ বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষজন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে অজ্ঞ, এক্ষেত্রে যৌন এবং প্রজনন বিষয়ের পাশাপাশি পুষ্টি ও স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞের সেবা গ্রহণের ব্যবস্থা থাকলে দেশ ও জনগণের অনেক উপকারে আসবে।

সিনেসিস আইটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহরাব আহমেদ চৌধুরী। তিনি জানান, সিনেসিস আইটি স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজ করে যাচ্ছে দীর্ঘ ১৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে। এই পথচলায় প্রায় ১৫০ এরও অধিক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সকল ডিজিটাল সেবা নিয়ে কাজ করেছে। আমি অত্যন্ত আনন্দের সাথে বলতে চাই; ই-গভার্নেন্স ও কল সেন্টার সেবার পাশাপাশি সিনেসিস আইটি আজ দেশের সর্ববৃহৎ ডিজিটাল স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।  

সকালে নিয়মিত লেবু পানি পানের উপকারিতা

আমরা সাধারণত খাবারের স্বাদ বাড়াতে এবং গরমের দিনে শরবত তৈরি করতে লেবু ব্যবহার করি। কিন্তু এর উপকারিতা এখানেই শেষ না।

লেবুতে আছে ভিটামিন সি এবং খনিজ উপাদান, যা আমাদের হৃদযন্ত্রের ধড়ফড়ানি কমানো থেকে ফুসফুসকে ঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। আর সকাল সকাল লেবু পানি পান করা আরও ভালো। নিয়মিত সকালে এক কাপ লেবু পানি পান করলে আপনাদের দেহ পাবে জাদুকরী উপকারিতা।

১. পাকা লেবুতে থাকে ইলেকট্রোলাইটস (যেমন পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ইত্যাদি)। সকাল সকাল লেবু পানি আপনাকে হাইড্রেট করে, শরীরে যোগান দেয় এইসব প্রয়োজনীয় উপাদানের, যা দেহের পানিশূন্যতা দূর করে।

২. লেবুপানি দেহের ত্বকের জন্য খুবই ভাল। লেবুর ভিটামিন সি উপাদান দেহের ত্বক ও টিস্যুর জন্য খুব জরুরি। তাই ত্বকের যেকোনো সমস্যা রোধ করতে প্রতিদিন লেবুপানি পান করুন। আপনার ত্বককে করে তোলে সুন্দর ও পরিষ্কার।

৩. বুক জ্বলা দূর করে। যাদের এই সমস্যা আছে, রোজ আধা কাপ পানির মাঝে ১ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন।

৪. অন্য যেকোনো খাবারের চেয়ে লেবু পানির ব্যবহারে লিভার অনেক বেশি দেহের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম তৈরি করতে পারে।

৫. আপনার নার্ভাস সিস্টেমে দারুণ কাজ করে। সকাল সকাল লেবুর পটাশিয়াম আপনার বিষণ্ণতা ও উৎকণ্ঠা দূর করতে সহায়ক।

৬. উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে।

৭. লেবু পানি শরীরের রক্তবাহী ধমনী ও শিরাগুলোকে পরিষ্কার রাখে।

৮. হাড় জয়েন্ট ও মাসল পেইন কমায় দ্রুত।

৯. সকাল সকাল চা বা কফি পান করে দিন শুরু না করে লেবু পানি পান করে দেখুন। নিজের এনার্জিতে নিজেই বিস্মিত হবেন! আপনার নার্ভাস সিস্টেমে দারুণ কাজ করে। সকাল সকাল লেবুর পটাশিয়াম আপনার বিষণ্ণতা ও উৎকণ্ঠা দূর করতে সহায়ক।

১০. গর্ভবতী নারীদের জন্য খুবই ভালো লেবু পানি। এটা শুধু নারীর শরীরই ভালো রাখে না। বরং গর্ভের শিশুর অনেক বেশি উপকার করে। লেবুর ভিটামিন সি ও পটাশিয়াম শিশুর হাড়, মস্তিষ্ক ও দেহের কোষ গঠনে সহায়তা করে। মাকেও গর্ভকালে রোগ বালাই থেকে দূরে থাকে।

যেভাবে পান করবেন

সামান্য উষ্ণ পানি বা এই গরমের দিনে কক্ষ তাপমাত্রার পানিতেই মিশিয়ে নিন লেবুর রস। লাইম নয়, লেমনের রস। পাকা, অর্থাৎ পেকে হলুদ হয়ে যাওয়া লেবুর রস। নাহলে খালি পেটে অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে! আপনার ওজন যদি ১৫০ পাউন্ডের কম হয়, তাহলে অর্ধেক লেবুর রস এক গ্লাস পানিতে মেশাবেন। আর যদি ১৫০ পাউন্ডের বেশি হয়, তাহলে মেশাবেন পুরো একটা লেবুর রস। 

শীতে যে ৫টি ফলে ত্বক হবে উজ্জ্বল

শীত কালে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যোগ করুন ফল। এই মৌসুমে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে জাম্বুরা, কলা, আপেল, আঙ্গুরসহ নানা রকমের বাহারি ফল। পুষ্টিগুণে ভরা এসব ফল ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং আপনাকে করে তোলে আরও সুন্দর।

শীতকালের এ ফলগুলো খাবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি শুষ্ক ত্বকে জৌলুস ফিরিয়ে আনবে। এসব ফলের কোনটা ত্বকের যত্নে কার্যকরী কোনটা আবার চোখের দ্যুতি বাড়াতে সাহায্য করে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক ৫টি ফলের মাধ্যমে সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার রহস্য-

জাম্বুরা

জাম্বুরাতে আছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি। জাম্বুরা শীত মৌসুমে শুষ্ক ত্বক কোমল করে। ২০০৮ সালে ইউরোপীয় ফার্মাসিউটিক্যাল এবং বায়োফার্মাসিটিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, জাম্বুরা বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ ফল। এ ফলে লাইকোপিনি (lycopene) রয়েছে, যা ২০ জন চর্ম রোগীর ওপর প্রয়োগ করা হয়। এতে আশানুরূপ ফল পাওয়া গেছে।

পেঁপে

পাকা পেঁপেতে ভিটামিন ‘ই’ ও ভিটামিন ‘এ’ রয়েছে। পেঁপেতে প্রচুর জলীয় অংশ থাকায় এটি ত্বককে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে। শরীরের স্বাভাবিক ক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য ভিটামিন ও খণিজ পদার্থের উৎস পেঁপে। অক্সফলিয়েটিং ত্বকের মৃত কোষ সারিয়ে তুলে ত্বককে রাখে দাগ ও বলিরেখা মুক্ত। নিজেকে রোগ মুক্ত ও সুন্দর রাখার জন্য প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় পেঁপে রাখা জরুরি।

ডালিম

ডালিমের রস অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে আপনার ত্বকে পুষ্টি যোগায়। ডালিমে প্রচুর পরিমাণে আয়রন আছে। ডালিম রক্তে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটির মাইক্রো পুষ্টি আপনার ত্বকে অকাল ভাঁজ ও দাগ পড়া থেকে রক্ষা করে।

আনারস

এ ফলে ভিটামিন সি রয়েছে, যা আপনার ত্বকের সমস্যাসহ অনেক রোগ প্রতিরোধ করে। আনারসে উপস্থিত Bromeliad নামক এনজাইম আমাদের ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী, যা কিনা ত্বকের মৃত কোষ, বলিরেখা, ত্বকের উপরিভাগের ময়লা ও সানবার্নের মতো দাগ তুলতে সাহায্য করে ও ত্বক সফট করে। দিনে একবার আপনার মুখের ওপর আনারসের রস লাগান। এতে আপনার শুষ্ক ত্বক কোমল হবে।

কলা

কলায় রয়েছে উচ্চ পটাশিয়াম ও ভিটামিন ‘এ’ যা আপনার ত্বক কোমল করে। বিশেষ করে শীতকালে শুষ্ক ত্বকে কলা একটি ভাল প্রবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। পরিপাকে ক্রিয়া বৃদ্ধি ও শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে অতুলনীয় ভূমিকা পালন করে। 

খাওয়ার পর যেসব কাজ করা উচিত নয়

আমরা যা খাই, তার প্রভাব পড়ে আমাদের শরীরে। সঠিক নিয়ম মেনে সঠিক খাবার খেলে যেমন স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়, তেমনই নিয়ম না মেনে ভুল খাদ্যাভ্যাস স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়।

আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনে আলোচনা করব খাওয়ার পরে যে পাঁচ কাজ কখনোই করা উচিত নয়, তা নিয়ে-

১. ভরা পেটে কখনোই ফল খাবেন না। খালি পেটে ফল খেলে তবেই তার খাদ্যগুণ আমাদের শরীরে শোষিত হয়। তাই খাওয়ার বেশ কিছুটা সময় পরে ফল খান। খাবার খেয়েই ফল খেলে হজমের সমস্যাও দেখা দেয়।

২. খাওয়ার পরেই আমাদের অনেকেরই ঘুম পায়। তাই খেয়ে উঠেই বিছানায় যেতে আমরা বেশ পছন্দ করি। কিন্তু এটা অত্যন্ত খারাপ অভ্যেস। খেয়ে উঠেই শুয়ে পড়লে ওজন তো বাড়বেই, সেই সঙ্গে হজমের সমস্যাও দেখা দেবে। তাই খেয়ে উঠে অন্তত এক ঘণ্টা পরে বিছানায় যান।

৩.খাবার পরেই অনেকে ধূমপান করেন। কিন্তু জানেন কি, ভরা পেটে ধূমপান করলে তা শরীরের বেশি ক্ষতি করে। তবে ভরা পেট বা খালি পেট নয়, ধূমপান পরিহার করাই সর্বাপেক্ষা শ্রেয়।

৪. পেটভর্তি করে খেয়ে অনেকেই কোমরের বেল্ট একটু হালকা করে নেন। এটিও কিন্তু খারাপ অভ্যাস। প্রথম কথা কখনোই পেট এতটা ভর্তি করে খাওয়া উচিত নয়, যাতে কোমরের বেল্ট হালকা করতে হয়।

৫. পানি খাওয়া শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। কিন্তু খেয়ে উঠেই পানি পান করবেন না। খাবার খেয়েই পানি খেলে তা হজমে সহায়ক গ্যাসট্রিক রসকে হালকা করে দেয়। ফলে খাবার ঠিকমতো হজম হতে চায় না। সেই রকমই খেয়ে উঠেই চা বা কফি খাওয়া ঠিক নয়। 

টয়লেটে মোবাইল ব্যবহার করলেই বিপদ!

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রযুক্তি। সেই সাথে জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে মোবাইল ফোন। অনেকে অস্বীকার করলেও এটাই বাস্তব যে অনেকেই টয়লেটে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। এক গবেষণায়ও দেখা গেছে, ৫৭ শতাংশ ব্রিটিশই টয়লেটে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন এবং ৮ শতাংশ বলেছেন তারা সর্বদাই ব্যবহার করেন।

তবে চিকিৎসকরা বলছেন, কেউ যদি টয়লেটে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। তবে তা ওই ব্যক্তির জন্য ভয়ংকর পরিণতি নিয়ে আসতে পারে। কারণ এই কারণে তার পাইলসে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা অনেকাংশেই বেড়ে যায়।

এ ব্যাপারে পেসেন্ট ডট ইনফোর ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ডা. সারা জার্ভিস বলেন, মোবাইল ফোন ব্যবহার করার কারণে আপনি বেশি সময় ধরে টয়লেটে অবস্থান করেন যেই কারণে আপনি পাইলসে আক্রান্ত হতে পারেন।

 

আপনি টয়লেটে যত বেশি সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন ততো বেশি সময় আপনি সেখানে অবস্থান করবেন। এই কারণে শিরা ও মলদ্বারে চাপ বৃদ্ধি পায় যা পাইলসের অন্যতম কারণ।

এই পাইলসে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা কমাতে টয়লেটে মোবাইল ফোন ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. সারা।

সূত্র: মেট্রো