ডায়াবেটিস হয়েছে অনেকে তা জানেনই না, পরীক্ষাও করান না

বাংলাদেশে প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাসপাতালে রোগীদের ওপর জপির চালিয়ে এমন তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি। 

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, সাধারণত ৩০ বছরের বেশি বয়সীদের টাইপ-২ (শরীরে ইনসুলিনের ঘাটতি থাকে) ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। খাদ্যাভাসে পরিবর্তন ও নিয়মিত শরীরচর্চা করলে ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি সচেতনতা। আর এ কাজে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন নার্সরা।

চলতি বছরের শুরুতে জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (নিপোর্ট) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৭-১৮’ প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষ ১ কোটি ১০ লাখ। ১৮-৩৪ বছর বয়সীদের মধ্যে এই সংখ্যা ২৬ লাখ। আর ৩৫ বছর ও এর চেয়ে বেশি বয়সীদের মধ্যে ৮৪ লাখ। প্রায় ৬০ শতাংশ নারী ও পুরুষ জানেনই না যে তারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকে অন্য রোগের চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রথমবারের মতো জানতে পারে সে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। দেশে বর্তমানে এমন কোনো পরিবার পাওয়া যাবে না যে পরিবারে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কেউ নেই। তবে অনেকে সে কথা জানে না। পরীক্ষাও করায় না। 

এমন পরিস্থিতির মধ্যে দেশে আজ শনিবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে।

ডায়াবেটিস দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য, ‘ডায়াবেটিস সেবায় পার্থক্য আনতে পারেন নার্সরাই’। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ কে আজাদ খান বলেছেন, নার্সরা সঠিক প্রশিক্ষণ পেলে রোগীকে ডায়াবেটিস সম্পর্কে ভালো ধারণা দিতে পারবেন। ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে চাইলে সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন।  রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‌‘আমি ডায়াবেটিস সম্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টিতে চিকিৎসক, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি ও গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থাকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ডায়াবেটিস সারা জীবনের রোগ। একবার হলে তা আজীবন বয়ে বেড়াতে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারনে হৃদপিণ্ড, কিডনি ও চোখ ছাড়াও শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ডায়াবেটিক রোগীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে নার্সরা বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারেন উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ডায়াবেটিস যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে একজন ডায়াবেটিক রোগীকে নিয়মিত নিজে নিজে রক্ত পরীক্ষা ও ইনসুলিন দেওয়া ছাড়াও ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় জানা থাকা আবশ্যক। নার্সরা ডায়াবেটিক রোগীদের এসব বিষয়ে উপযুক্ত স্বাস্থ্যশিক্ষা দিতে পারলে যে কোনো ডায়াবেটিক রোগীর পক্ষেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়ে উঠবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা সৃষ্টিতে সরকারের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। এ ব্যাপারে নানা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডায়াবেটিক রোগীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমিয়ে আনা ও উপযুক্ত ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের পাশাপাশি নার্সরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। কারণ, ডায়াবেটিস সুনিয়ন্ত্রণে রাখার ওপরই একজন ডায়াবেটিক রোগীর সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন নির্ভরশীল। আর এ কারণে নার্সরা যদি ডায়াবেটিক রোগীকে রক্ত পরীক্ষা, ইনসুলিন দেয়া ছাড়াও অন্যান্য বিষয়গুলো শিখিয়ে দিতে পারেন তবে ডায়াবেটিস-সেবায় বিশাল বদল আসতে পারে। এর জন্য নার্সদেরও উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *